আগামী বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) জ্বালানি তেল উত্তোলন বৃদ্ধির পরিকল্পনা স্থগিত রাখবে ওপেক প্লাস। বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহের সম্ভাবনা ও পণ্যটির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে রোববারের বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংগঠনটি। খবর রয়টার্স।
পেট্রোলিয়াম রফতানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেক ও রাশিয়াসহ অন্যান্য সহযোগী দেশ নিয়ে গঠিত ওপেক প্লাস। সংগঠনভুক্ত দেশগুলো এপ্রিল থেকে দৈনিক প্রায় ২৭ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল উত্তোলন বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়েছে, যা বৈশ্বিক সরবরাহের প্রায় ২ দশমিক ৭ শতাংশ। তবে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনায় অক্টোবর থেকে উত্তোলন বাড়ার গতি কমাচ্ছে সংগঠনটি।
সংশ্লিষ্টরা জানান, পশ্চিমা দেশগুলোর রাশিয়ার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা উত্তোলন বাড়ানোর পরিকল্পনায় আরো জটিলতা যোগ করেছে।
ওপেক প্লাসভুক্ত আট দেশ সৌদি আরব, রাশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরাক, কুয়েত, ওমান, কাজাখস্তান ও আলজেরিয়া রোববার অনুষ্ঠিত নিয়মিত মাসিক সভায় ডিসেম্বরে দৈনিক ১ লাখ ৩৭ হাজার ব্যারেল উত্তোলন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগে অক্টোবর ও নভেম্বরে একই পরিমাণ জ্বালানি তেল উত্তোলন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সংগঠনটি।
তবে এরপর এক বিবৃতিতে ওপেক প্লাস জানিয়েছে, ডিসেম্বরের পর মৌসুমজনিত কারণে জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চে উত্তোলন বাড়ানোর পদক্ষেপ স্থগিত থাকবে।
রাইস্ট্যাড এনার্জির জর্জ লিয়ন বলেন, ‘ওপেক প্লাস জ্বালানি তেল উত্তোলন বৃদ্ধির পরিকল্পনায় সাময়িক বিরতির ঘোষণা দিয়েছে। তবে এটি পরিকল্পিত। রাশিয়ার উৎপাদকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা বাজারে সরবরাহের পূর্বাভাস নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।’
এনার্জি অ্যাসপেক্টসের অমৃতা সেন বলেন, ‘জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত জ্বালানি তেলের চাহিদা কম থাকে। উত্তোলন বৃদ্ধি স্থগিত রেখে ওপেক প্লাস বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে।’
অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম গতকাল ব্যারেলে ১ সেন্ট বা দশমিক শূন্য ২ শতাংশ কমেছে। প্রতি ব্যারেলের মূল্য নেমেছে ৬৪ ডলার ৭৬ সেন্টে। এ সময় মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম নেমেছে ব্যারেলপ্রতি ৬০ ডলার ৯৫ সেন্টে, যা আগের দিনের তুলনায় ব্যারেলে ৩ সেন্ট বা দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ কম।
অক্টোবরে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআইয়ের দাম ২ শতাংশের বেশি কমেছে। রয়টার্সের এক জরিপ অনুযায়ী, বিশ্লেষকরা জ্বালানি তেলের মূল্য পূর্বাভাস আগের তুলনায় অপরিবর্তিত রেখেছেন। এ সময় ওপেক প্লাসের উত্তোলন বৃদ্ধি ও নিম্নমুখী চাহিদার কারণে ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির প্রভাব বাজারে পড়বে না বলে জানিয়েছেন তারা। এছাড়া বাজারে জ্বালানি তেলের উদ্বৃত্তের পরিমাণ হতে পারে দৈনিক ১ লাখ ৯০ হাজার থেকে ৩০ লাখ ব্যারেল পর্যন্ত।
মার্কিন এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ইআইএ) গত শুক্রবার জানিয়েছে, আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন রেকর্ড দৈনিক ১ কোটি ৩৮ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছে।